28 January 2012,

কপোতাক্ষ খনন প্রকল্পে এখনো অর্থ বরাদ্দ হয়নি
# জরুরী ভিত্তিতে প্রকল্পে অর্থ বরাদ্দের দাবি এ অঞ্চলের মানুষের
॥ হাসান হিমালয় ॥
একনেকে অনুমোদনের ৪মাস অতিবাহিত হলেও কপোতাক্ষ নদের পুনরুজ্জীবনের জন্য নেয়া প্রকল্পে অর্থ ছাড় হচ্ছে না। ইতোমধ্যে টিআরএম করার জন্য পেরিফেরি নির্মাণ, বেড়িবাঁধ ও সংযোগ খাল খননের জন্য ৩৫টি লটে দরপত্র আহবান এবং ঠিকাদার চূড়ান্ত করা হয়েছে। কিন্তু প্রকল্পে কোন অর্থ না থাকায় ঠিকাদারদের কার্যাদেশ দেয়া যাচ্ছে না। দ্রুত অর্থছাড় না হলে কাজের গতি মন্থর হবার আশঙ্কা প্রকাশ করছেন পাউবো কর্মকর্তারা। এজন্য কপোতাক্ষ নদ ও নদী পাড়ের মানুষদের বাঁচাতে দ্রুত অর্থ বরাদ্দের দাবি জানিয়েছেন এ অঞ্চলের মানুষ।সূত্র জানায়, বর্তমান সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকেই কপোতাক্ষ নদকে বাঁচানোর দাবি ওঠে। প্রধানমন্ত্রী নিজে কপোতাক্ষ নদ ও নদ পাড়ের মানুষকে বাঁচাতে সংশ্লিষ্টদের দ্রুত পদক্ষেপ নেয়ার নির্দেশ দেন। নদের সংস্কার ও পুনরুজ্জীবনের জন্য ২০১১ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর ‘কপোতাক্ষ নদের জলাবদ্ধতা দূরীকরণ প্রকল্প (প্রথম পর্যায়)’ একনেকে অনুমোদন হয়। এর মাধ্যমে কপোতাক্ষ নদের পুনঃখনন, বিকল্প নিষ্কাশন পথ পুনঃখনন, বন্যা নিয়ন্ত্রণ এবং সেচ ব্যবস্থার সম্প্রসারণসহ মৎস্য খাতের উন্নয়ন করা হবে। বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সম্পূর্ণ সরকারি অর্থায়নে এ প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে। ৫ বছর মেয়াদী এ প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ২৬১ কোটি টাকা।
পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্র জানায়, একনেকে অনুমোদনের পরেই প্রায় দুই মাস পরে এ সংক্রান্ত ডিও পাউবোতে পৌঁছায়। এরপর থেকে দ্রুত গতিতে সব কাজ এগিয়ে চলছে। সূত্র জানায়, প্রচলিত পদ্ধতিতে নদটি খনন করলেও অল্পদিনের মধ্যেই তা’ পলিতে ভরে যাবে। এজন্য টাইটাল রিভার ম্যানেজমেন্ট (টিআরএম) পদ্ধতিতে নদ খননেন সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। টিআরএম করার জন্য পেরিফেরি ও বাঁধ নির্মাণ, সংযোগ খাল খনন, কিছু কালভার্ট ও ব্রিজ নির্মাণ এজন্য ২০১০ সালের ডিসেম্বর মাসে দরপত্র আহবান করা হয়। চলতি বছরের ১৬ জানুয়ারি ৩৫টি লটে দরপত্র গ্রহণ করা হয়েছে। এই কাজের প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে ৩৯ কোটি টাকা। পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রধান প্রকৌশলী (দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল) গিয়াস উদ্দিন আহমেদ পূর্বাঞ্চলকে বলেন, প্রকল্পে অর্থ বরাদ্দ না থাকায় ঠিকাদারদের কার্যাদেশ দেয়া যাচ্ছে না। যেহেতু অর্থ নেই তাই কার্যাদেশ দেয়ার অনুমতি চেয়ে মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে। অর্থ না পেলেও আগামী মাস থেকেই কাজ শুরু হবে বলে তিনি জানান। প্রধান প্রকৌশলী বলেন, এ অঞ্চলের মানুষের দুর্ভোগের কথা বিবেচনা করে দ্রুত সময়ের মধ্যে নদটি খনন করার পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। আগামী বর্ষায় কিছুটা কষ্ট হলেও পরবর্তীতে বছরে জলাবদ্ধতার অভিশাপ সম্পূর্ণ মুক্ত হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
পানি উন্নয়ন বোর্ড যশোরের নির্বাহী প্রকৌশলী মশিউর রহমান বলেন, একনেকে অনুমোদনের পর থেকেই মূলত প্রকল্পের কাজ শুরু হয়ে গেছে। কৃষকদের সাথে কথা বলে, স্থানীয়দের সাথে নিয়ে পেরিফেরি, অন্যান্য কাজের জন্য ভূমি হুকুম দখলের কাজ চলছে। ইতোমধ্যে প্রায় ১৭শ’ একর জমি হুকুম দখলের জন্য যশোরের জেলা প্রশাসক নোটিশ দিয়েছেন। তিনি বলেন, মন্ত্রণালয়ের অনুমিত পেলেই ঠিকাদারদের কার্যাদেশ দেয়া হবে। খুব দ্রুত গতিতে এবং আন্তরিকতার সাথে সবাই কাজ করছে। এই গতি অব্যাহত রাখতে দ্রুত অর্থছাড় করার দাবি জানান। অনথ্যায় কাজের গতি মন্থর হয়ে যাওয়ারও আশংঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি। পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্র জানায়, কপোতাক্ষ নদ খনন অনেক বড় প্রকল্প। প্রকল্পের আওতায় দীর্ঘমেয়াদীভাবে কপোতাক্ষ নদ পুনঃখনন ও এর পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন বিল ও খাল খনন, সংযোগ চ্যানেল খনন, ক্লোজার ড্যাম অপসারণ করা হবে। এর মধ্যে রয়েছে পাখিমারা বিলের নিকট শালিখা খাল পুনঃখনন, সংযোগ খাল খনন ও সংযোগ খালের তীর সংরক্ষণ, ১৭ দশমিক ২০ কি.মি. চৌহদ্দি বাঁধ নির্মাণ, বুড়িভদ্রা নদীর ২০ কি.মি পুনঃখনন, গজশ্রী খাল খনন এবং উভয় তীরে ১১ কি.মি. বাঁধ নির্মাণ, কপোতাক্ষ নদের উভয় তীরে ২১ দশমিক ৫০ কি.মি বাঁধ নির্মাণ, সংযোগ খালের উপর ১টি বেইলি ব্রিজ নির্মাণ, মোশেমপুর খালের উপর ১টি টু ভেন্ট রেগুলেটর নির্মাণ,  ক্লোজার-ড্যাম অপসারণ। এ জন্য ৮ হেক্টর ভূমি অধিগ্রহণ করা হবে। প্রকল্পে চলতি ২০১১-২০১২ অর্থবছরে ২৮ কোটি ৩৭ লাখ, ২০১২-২০১৩ অর্থবছরে ১১৪ কোটি ৬৫ লাখ, ২০১৩-২০১৪ অর্থবছরে ১০২  কোটি ৬৩ লাখ ও ২০১৪-২০১৫ অর্থবছরে ১৫ কোটি ৮৮ লাখ টাকা ব্যয় করা হবে।
সূত্র জানায়, কপোতাক্ষ নদ খনন প্রকল্পের বিস্তৃতি অনেক ব্যাপক। ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করতে হলে প্রকল্পটিতে সময়মত অর্থ বরাদ্দ জরুরী। অর্থ বরাদ্দে দেরি হলে প্রকল্পের কাজে দীর্ঘসূত্রতা তৈরি হবার আশংঙ্কা রয়েছে। এতে করে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগের সাথে সাথে ব্যয়ও বাড়বে। এ অঞ্চলের মানুষের দুর্ভোগের কথা বিবেচনা করে দ্রুত প্রকল্পে অর্থছাড় এবং দ্রুত কাজ শেষ করার দাবি জানিয়েছে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষ।

মার্চে ভোটার তালিকা হালনাগাদ শুরু
ঢাকা, জানুয়ারি ২৭।- দশম সংসদ নির্বাচন সামনে  রেখে মার্চ মাসের মাঝামাঝি সময়ে বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে ছবিসহ ভোটার তালিকা হালনাগাদ কার্যক্রম করছে নির্বাচন কমিশন। কর্মকর্তারা বলছেন, সারাদেশে চার ধাপে এই হালনাগাদ কার্যক্রম শেষে  ভোটার সংখ্যা ৮০ থেকে ৯০ লাখ বাড়তে পারে।  সে  ক্ষেত্রে ষোল কোটি মানুষের এই দেশে ভোটার সংখ্যা দাঁড়াবে নয় কোটিরও বেশি।
বিডিনিউজ জানায়: ২০০৮ সালে নবম সংসদ নির্বাচনের আগে ছবিসহ ভোটার তালিকা প্রণয়নের পর সর্বশেষ ২০০৯ সালে তা হালনাগাদ করা হয়। সে অনুযায়ী, বর্তমানে সাড়ে আট কোটি ভোটার তালিকাভুক্ত রয়েছে। আইন অনুযায়ী ২০১৪ সালের ২৪ জানুয়ারির মধ্যে দশম জাতীয় নির্বাচন হওয়ার কথা। বৃহস্পতিবার হালনাগাদ কার্যক্রম নিয়ে ইসি এবং ছবিসহ ভোটার তালিকা প্রণয়ন ও জাতীয় পরিচয়পত্র প্রদান প্রকল্পের (পিইআরপি) বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়, ১৮ ও তার বেশি বয়সী নতুন ভোটার এবং আগে বাদ পড়াদের অন্তর্ভুক্তির পাশাপাশি স্থানান্তর, সংশোধন ও মৃতদের বাদ দিয়ে ভোটার তালিকা হালনাগাদ করা হবে। ওই বৈঠক শেষে নির্বাচন কমিশনার এম সাখাওয়াত  হোসেন বলেন, “হালনাগাদ কার্যক্রম ইসির সুবিধাজনক সময়ে করার বিধান রেখে আইন সংশোধনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এ ধারাবাহিকতায় মার্চের মাঝামাঝি সময়ে হালনাগাদ কার্যক্রম শুরু হবে।” বিদ্যমান আইন অনুযায়ী, প্রতি বছরের ২ জানুয়ারি  থেকে ৩১ জানুয়ারির মধ্যে ভোটার তালিকা হালনাগাদের কথা থাকলেও স্থানীয় সরকার নির্বাচনের কারণে গত দুই বছর তা সম্ভব হয়নি। এবারের হালনাগাদ কার্যক্রম সফল করতে ইতোমধ্যে দেশের চারটি এলাকায় (নওগাঁর পতœীতলা, গাজীপুরের কালিগঞ্জ পৌরসভা, ঢাকার গুলশানের ১৮ নম্বর ওয়ার্ড এবং কক্সবাজারে ঝিলনজা ইউনিয়ন) পরীক্ষামূলক প্রকল্প শেষ করেছে ইসি। ভোটার তালিকা প্রণয়ন প্রকল্পের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আখতারুজ্জামান সিদ্দিক বলেন, “পাইলট প্রকল্পের অভিজ্ঞতা নিয়েই দেশব্যাপী হালনাগাদ কার্যক্রম শুরু করা হবে।” ইসির কর্ম পরিকল্পনা অনুযায়ী, ৩৭০ দিনের হালনাগাদ কর্মসূচিতে তথ্য সংগ্রহ হবে চার ধাপে। প্রথম দফায় ১০০ দিন, পরবর্তী তিন দফায় ৯০ দিন করে কাজ চলবে। ৬৪টি জেলায় একইসঙ্গে কাজ শুরু হয়ে উপজেলাগুলোকে চার ভাগ করে বিভিন্ন ধাপে হালনাগাদ করা হবে। সিটি কর্পোরেশন এলাকাগুলোতে এ কার্যক্রম চলবে চতুর্থ বা শেষ ধাপে। তথ্য সংগ্রহ, ছবিতোলা ও আঙ্গুলের ছাপ  নেয়া, তথ্য যাচাই-বাছাই এবং খসড়া তালিকা তৈরির পর তালিকা চূড়ান্ত করা হবে। বাংলাদেশে অনুপ্রবেশকারী রোহিঙ্গাসহ অন্য দেশের নাগরিকদের ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্তি ও জাতীয় পরিচয়পত্র সংগ্রহ বন্ধে এবার বিশেষ পদ্ধতি অনুসরণ করা হবে। ভোটারের বাবা-মা, স্বামী-স্ত্রী বা পিতামহের আইডি নম্বরও নেয়া হবে এবার। পুরো হালনাগাদ কাজ শেষ হতে এ বছর পর্যন্ত সময়  লেগে যেতে পারে বলে মনে করেন আক্তারুজ্জামান। আর সেক্ষেত্রে দশম সংসদ নির্বাচনের আগে আর তালিকা হালনাগাদ করার সুযোগ পাবে না নির্বাচন কমিশন। প্রকল্প পরিচালকের ধারণা, এবার হালনাগাদে ভোটার সংখ্যা প্রায় ১০ শতাংশ বাড়তে পারে। ইসি কর্মকর্তারা জানান, বিগত ফখরুদ্দীন আহমদের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়ে ২০০৭ সালে গাজীপুরের শ্রীপুরে পাইলট প্রকল্প দিয়ে ছবিসহ  ভোটার তালিকা কার্যক্রম শুরু হয়। ২০০৮ সালের নবম সংসদ নির্বাচনে ভোটার তালিকায় নাম ছিল আট  কোটি দশ লাখ ৫৮ হাজার ৬৯৮ জনের। ২০০৯ সালের হালনাগাদে তা ৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে হয় আট  কোটি ৫৭ লাখ ৭৪৭ জন। ২০১০ সালে ব্যক্তিগতভাবে আবেদন করে আরও চার হাজার ৮৫০ জন ভোটার তালিকাভুক্ত হন। কিন্তু ওই সময় পর্যন্ত এক লাখ ৯৪ হাজার ৯২০ জন মারা যাওয়ায় ভোটার তালিকা থেকে তাদের নাম বাদ  দেয়া হয়। ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আখতারুজ্জামান বলেন, “দুই থেকে তিন বছরের (২০১৩ সালে যাদের বয়স ১৮ হবে) তথ্য সংগ্রহ করলে হালনাগাদে ৮৫ লাখ থেকে ৯০ লাখ নতুন ভোটার অন্তর্ভুক্ত হতে পারে বলে ধারণা করছি আমরা।” ইসি কর্মকর্তারা জানান, প্রতি বছর হালনাগাদ কার্যক্রম পরিচালনা করা স্বল্প জনবল দিয়ে সম্ভব নয়। এ কারণে আইন সংশোধন করে ‘প্রতি বছর ২ জানুয়ারি  থেকে ৩১ জানুয়ারির মধ্যে’- এই বাক্যের পরিবর্তে ‘কমিশন যখন সময় নির্ধারণ করবে’- প্রতিস্থাপন করা হবে। নির্বাচন কমিশনার মুহাম্মদ ছহুল হোসাইন বলেন, “একটি কর্মপরিকল্পনা বর্তমান কমিশন অনুমোদন করে গেল। হালনাগাদ চলমান প্রক্রিয়া। সারাদেশে সার্ভার স্টেশনগুলো চালু হলে সব সময় হালনাগাদ কার্যক্রম চলবে।” এদিকে, দ্বৈত ভোটার চিহ্নিত করে সংশ্লিষ্ট তথ্য নষ্ট ও পরিচয়পত্র জব্দ করার নির্দেশ দিয়েছে জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অণুবিভাগ। এ বিষয়ে গত মঙ্গলবার একটি পরিপত্র জারি করা হয়েছে। এই অণুবিভাগের পরিচালক মো. মহসীন আলী জানান, বিশেষ পদ্ধতির মাধ্যমে (এএফআইএস ম্যাচিং) ছবি, আঙ্গুলের ছাপ ও তথ্য মিলিয়ে দেখা হবে। ছবি ও ছাপ মিলে গেলে, কিন্তু তথ্য দুই রকম হলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

১২ মার্চের মহাসমাবেশ বানচালে ষড়যন্ত্র চলছে : বিএনপি
ঢাকা, জানুয়ারি ২৭।- ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ‘পাল্টা কর্মসূচি’ দিয়ে ১২ মার্চ বিরোধী দলের মহাসমাবেশ ‘বানচালের’ ষড়যন্ত্র করছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আ স ম হান্নান শাহ।
বিডিনিউজ জানায়: শুক্রবার সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবে এক আলোচনা সভায় তিনি বলেন, “১২ মার্চের মহাসমাবেশ বানচাল করতে আওয়ামী লীগ পাল্টা কর্মসূচি দিয়েছে। সরকারি দলকে বলবো, রাজনৈতিক শিষ্ঠাচার শিখুন। আমাদের কর্মসূচি পূর্বঘোষিত। এভাবে বিশৃঙ্খলা করার পরিণতি শুভ হবে না।” গত ৯ জানুয়ারি চট্টগ্রাম পলোগ্রাউন্ড মাঠে এক সমাবেশ থেকে ১২ মার্চ ঢাকায় মহাসমাবেশ ও ২৯ জানুয়ারি সারাদেশে গণমিছিল কর্মসূচি ঘোষণা করেন বিরোধী দলীয় নেতা খালেদা জিয়া। এদিকে, বৃহস্পতিবার ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভা থেকে ২৯ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে জনসভা করার  ঘোষণা দেয়া হয়। জাতীয়তাবাদী সাংস্কৃতিক দলের উদ্যোগে আলোচনা সভায় হান্নান শাহ অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগ ১২ মার্চের সমাবেশ বানচাল করারও পরিকল্পনা করেছে। সরকার তোষণ নীতির মাধ্যমে দেশকে ভারতের ওপর নির্ভরশীল করে ফেলতে চাইছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
‘সব অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ জড়িত’:
প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৭৬তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এই আলোচনা সভায় অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হান্নান শাহ বলেন, “আমি  সেনাবাহিনীর একজন সাবেক কর্মকর্তা হিসেবে বলছি, বাংলাদেশে যতো অভ্যুত্থান কিংবা ক্যু হয়েছে, তার সঙ্গে আওয়ামী লীগ জড়িত ছিলো। এখন প্রধানমন্ত্রী অভ্যুত্থানের সঙ্গে জিয়াকে জড়াচ্ছেন। এটা মিথ্যাচার ছাড়া কিছুই নয়।” ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যার পর সেনাবাহিনীতে অভ্যুত্থান-পাল্টা অভ্যুত্থান চলে। এরই এক পর্যায়ে ক্ষমতা নেন মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমান। বর্তমান সরকার সেনা বাহিনীর পোশাক বদলে ফেলার পরিকল্পনা করছে উল্লেখ করে হান্নান শাহ বলেন, “এখন শুনছি, আগেকার রক্ষী বাহিনীর জলপাই রঙের  পোশাকের আদলে সেনাবাহিনীর অফিস ড্রেস চালু করা হচ্ছে। ওই জলপাই রংয়ের পোশাক কেবল রক্ষীবাহিনীই নয়, অন্য একটি দেশের সেনাবাহিনীর মতোও। এটা কিসের আলামত?” সা¤প্রতিক ব্যর্থ অভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ টেনে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আবদুল মঈন খান অনুষ্ঠানে বলেন, “বাংলাদেশ সেনা বাহিনী কখনোই দেশের গণতন্ত্র হত্যার সঙ্গে জড়িত ছিলো না। সংসদে কয়েক মিনিটে আইন পাস করে আওয়ামী লীগই গণতন্ত্র হত্যা করেছে।’’ সেনাবাহিনী গত ১৯ জানুয়ারি এক সংবাদ সম্মেলনে জানায়, কিছু প্রবাসী বাংলাদেশির ইন্ধনে  সেনাবাহিনীতে কর্মরত ও অবসরপ্রাপ্ত কয়েকজন ধর্মান্ধ কর্মকর্তা স¤প্রতি বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ধারা ব্যাহত করার প্রয়াস চালায়, যা সেনাবাহিনীর ঐকান্তিক চেষ্টায় প্রতিহত করা হয়েছে। এরপর ২১ জানুয়ারি এক অনুষ্ঠানে অভ্যুত্থান চেষ্টার জন্য প্রধান বিরোধী দল বিএনপির দিকে অভিযোগের আঙুল  তোলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, “তাদের (বিরোধী দল) বক্তৃতা, বিবৃতি একবার অ্যানালাইসিস করা হলেই অনেক কিছু পরিষ্কার হয়ে যাবে দেশের মানুষের কাছে।” অবশ্য বিএনপি বলে আসছে, গণতান্ত্রিক পন্থা ছাড়া অন্য কোনো উপায়ে ক্ষমতা হস্তান্তর তারা সমর্থন করে না।
জাতীয়তাবাদী সাংস্কৃতিক দলের আহ্বায়ক হুমায়ুন কবীর ব্যাপারীর সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় অন্যদের মধ্যে স্বাধীনতা ফোরামের সভাপতি আবু নাসের মো. রহমাতুল্লাহ, নাগরিক সংসদের সভাপতি ফরিদা ইয়াসমীন, তাঁতী দলের সভাপতি হুমায়ুন ইসলাম খান, সাংস্কৃতিক একাডেমীর চেয়ারম্যান এম এম মেহবুব রহমান বক্তব্য দেন।

সমালোচনা মার্জিত ভাষায় করুন:হানিফ
ঢাকা, জানুয়ারি ২৭।- জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণ নিয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের বক্তব্যের সমালোচনা করে ‘মার্জিত’ ভাষা ব্যবহারের আহ্বান জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক মাহবুবুল আলম হানিফ।
বিডিনিউজ জানায়: শুক্রবার বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, “রাষ্ট্রপতির ভাষণ নিয়ে মির্জা ফখরুল সাহেব কটুক্তি করেছেন। তিনি যেভাবে কথা বলেছেন তা রাজনৈতিক শিষ্টাচার বহির্ভূত।” গত বুধবার জাতীয় সংসদের দ্বাদশ অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির দেয়া ভাষণকে ‘বাস্তবতা বিবর্জিত’ আখ্যায়িত করে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বৃহস্পতিবার প্রেসক্লাবে এক অনুষ্ঠানে বলেন, “আওয়ামী লীগ সরকার যা বলে, তিনি (রাষ্ট্রপতি) তাই করেন। সংসদে তোতা পাখির মতো তিনি সরকারের বক্তব্য পাঠ করেছেন।” মির্জা ফখরুলের উদ্দেশ্যে বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোটের অনুষ্ঠানে হানিফ বলেন, “তার (রাষ্ট্রপতি) বক্তব্যে  কোথায় ভুল আছে বলুন।” “আপনারা সমালোচনা করুন, শালীন মার্জিত ভাষায় করুন। অমার্জিত ভাষায় করবেন না”, যোগ করেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক। বিরোধী দল ‘অস্থির’ হয়ে উঠেছে উল্লেখ করে তিনি প্রশ্ন রাখেন, “গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থায় জনগণ পাঁচ বছরের জন্য সরকারের মেয়াদ নির্ধারণ করে দেয়। এই সরকারের মেয়াদ শেষ হতে এখনো ২ বছর বাকি আছে। বিরোধী দলের এতো অস্থিরতার কারণ কী?” বিরোধী দলের ‘সরকার-পতন আন্দোলনের’ উদ্দেশ্য নিয়েও হানিফ প্রশ্ন তোলেন। “আপনারা বলছেন গণঅভ্যুত্থান ঘটিয়ে সরকারের পতন ঘটাবেন। কোন যুক্তিতে, কোন নীতিতে আপনারা সরকারের পতন ঘটাতে চান?” বর্তমান সরকারের শুরু থেকেই বিরোধী দল সরকারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত- এমন অভিযোগ করে হানিফ বলেন, “এ সরকার ক্ষমতায় আসার দেড় মাসের মাথায় বিডিআর বিদ্রোহ হয়েছে। যেদিন গোলাগুলি শুরু হয় সেদিন সকালে বিরোধী দলীয় নেত্রী কেন নিজের বাড়ি ছেড়ে গিয়েছিলেন?” সেনা বাহিনীতে সা¤প্রতিক ব্যর্থ অভ্যুত্থান পরিকল্পনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “এটা সরকারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের অংশ। তারা (বিএনপি) বলেছিল ডিসেম্বরের মধ্যে সরকার পতন ঘটাবে। সেনাবাহিনীতে ক্যুয়ের  চেষ্টা হয়েছে ডিসেম্বর মাসেই।” মাহবুবুল আলম হানিফ বলেন, “তদন্তের মাধ্যমেই  বেরিয়ে আসবে, কোন কোন রাজনৈতিক দল কিংবা ব্যক্তি ওই ক্যু এর সাথে জড়িত ছিল।” ‘ষড়যন্ত্রের পথ’ থেকে সরে এসে বিএনপিকে সংসদে ফেরারও আহ্বান জানান এই আওয়ামী লীগ নেতা। তিনি বলেন, “সংসদে আসুন। রাজনৈতিকভাবে বাস্তবতার  মোকাবেলা করুন। রাজপথে আন্দোলন সংগ্রাম করে  কোনো লাভ হবে না।” সাবেক অর্থমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগ নেতা শাহ এ এস এম কিবরিয়ার মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এ স্মরণসভায় অন্যদের মধ্যে আইন প্রতিমন্ত্রী কামরুল ইসলাম বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোটের সভানেত্রী তারানা হালিম, কৃষক লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এম এ করিম, ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শাহে আলম মুরাদ, বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোটের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পদক অরুণ সরকার রানা বক্তব্য দেন।

বিএনপির গণমিছিল: নয়া পল্টনে শুরু হয়ে শেষ হবে বাংলামটরে
ঢাকা, জানুয়ারি ২৭।- নয়া পল্টনে দলীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে গণমিছিল শুরু করে বাংলামটরে গিয়ে তা শেষ করবে বিএনপি।
বিডিনিউজ জানায়: তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতি পুনর্বহালসহ বিভিন্ন দাবিতে রোববার এই কর্মসূচি করবে বিরোধী দল। পূর্বঘোষিত এই মিছিলের রুট শুক্রবার প্রকাশ করা হয়েছে।
বিএনপির যুগ্মমহাসচিব রুহুল কবির রিজভী সাংবাদিকদের বলেছেন, দুপুর আড়াইটায় দলীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে গণমিছিল শুরু হবে। শান্তিনগর, মালিবাগ, মৌচাক, মগবাজার হয়ে বাংলামটরের জোহরা মার্কেটের সামনে গিয়ে শেষ হবে ওই মিছিল। রিজভী বলেন, শান্তিপূর্ণ এই কর্মসূচির নিরাপত্তা ও মাইক ব্যবহারের বিষয়ে যথাযথ পদক্ষেপ নিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, সচিব, পুলিশের মহাপরিদর্শক ও মহানগর পুলিশ কমিশনারকে চিঠি দিয়ে অনুরোধ করা হয়েছে। “কিন্তু মহানগর পুলিশ কমিশনারের সঙ্গে দলের একটি প্রতিনিধি দল কয়েকদিন ধরে সাক্ষাতের চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়েছেন। ডিএমপি কমিশনারের কাছ থেকে এখনো কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। এটা দুর্ভাগ্যজনক,” বলেন তিনি। গণমিছিলের প্রচারে পুলিশ ও আওয়ামী লীগকর্মীরা বাধার সৃষ্টি করছে বলেও বিএনপির এই নেতার অভিযোগ। তিনি জানান, পোস্টার লাগানোর সময়  তেজগাঁও, আদাবর, সাতরাস্তার মোড় ও শাহবাগ  থেকে বিএনপির পাঁচ জন কর্মীকে পুলিশ আটক করেছে। গণমিছিলের দিন ঢাকায় আওয়ামী লীগের সমাবেশ আহ্বানের প্রতিক্রিয়ায় রিজভী বলেন, “এটা আওয়ামী লীগের স্বৈরাচারী মনোভাবের বহিঃপ্রকাশ। তবে পাল্টা কর্মসূচি দিয়ে গণমিছিলকে ব্যাহত করা যাবে না।”

জাতিসংঘ দপ্তরে ১৬ কেজি কোকেন ! 
ঢাকা, জানুয়ারি ২৭।- নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘ সদরদপ্তর থেকে গত সপ্তাহে ১৬ কেজি কোকেনসহ একটি ব্যাগ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
বিডিনিউজ জানায়: শুক্রবার বিবিসি অনলাইনের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, জাতিসংঘের প্রতীক (লোগো) সম্বলিত ব্যাগটি গত সপ্তাহে এই বিশ্ব সংস্থার  মেইল রুমে পৌঁছায়। মেক্সিকো সিটি থেকে জাহাজে পাঠানো ওই ব্যাগের ওপর কারো নাম বা ঠিকানা ছিল না। যুক্তরাষ্ট্রের সিনসিনাটি হয়ে নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘ দপ্তরে পৌঁছায় সেটি। নিউ ইয়র্ক পুলিশের মুখপাত্র পল ব্রাউনি বলছেন, ব্যাগটি সহজে পাচার করার জন্যই জাতিসংঘের  লোগো বসানো হয়েছিল। কিন্তু ওই লোগোর কারণেই নাম-ঠিকানাহীন ব্যাগটি ‘ভুল করে’ জাতিসংঘে পৌঁছে  দেয়া হয়েছে বলে তাদের ধারণা। মেইল রুমে সাদা রংয়ের ব্যাগটি স্ক্যান করার সময় জাতিসংঘ প্রতীকের নিম্নমানের ছাপ দেখে সন্দেহ হয় নিরাপত্তা কর্মীদের। ব্যাগটি খুলে কয়েকটি নোটবুক পাওয়া যায়, যেগুলোর ভেতরটা ফাঁকা করে ভেতরে কোকেন পুরে রাখা হয়েছিল। জাতিসংঘের নিরাপত্তা বিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারি  জেনারেল গ্রেগরি স্টার সাংবাদিকদের বলেন, “আমার ধারণা, এটা মাদক পাচারকারীদের কাজ। তাদের উদ্দেশ্য ছিল যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরে কোথাও এগুলো পাচার করা। কিন্তু তাদের পরিকল্পনায় কোথাও ভুল হয়ে গেছে।”

মাটি খুঁড়তে গিয়ে পাওয়া গেল ১১টি বন্দুক, গুলি
ব্রাহ্মণবাড়িয়া, জানুয়ারি ২৭।- ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের ভাদুঘর বাজারে মাটি খোঁড়ার সময় ১১টি বন্দুক ও ম্যাগাজিনের সন্ধান মিলেছে। এর মধ্যে ১০টি রাইফেল ও একটি এলএমজি এবং ৩টি ম্যাগজিন রয়েছে।
বিডিনিউজ জানায়: ব্রাহ্মণবাড়িয়া কমিউনিটি ক্লিনিকের নির্মাণ কাজের মাটি খোঁড়ার সময় শ্রমিকরা এসব আগ্নেয়াস্ত্রের সন্ধান পান। পরে পুলিশকে খবর দিলে তারা সেগুলো উদ্ধার করেন। দুপুরে ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে পুলিশ সুপার জামিল আহমেদ সাংবাদিকদের জানান, মাটির নিচে অস্ত্রগুলো কীভাবে এসেছে এই রহস্য উন্মোচনে তদন্ত করা হচ্ছে।

রাজধানীর বিপণি বিতানে বিস্ফোরণ
ঢাকা, জানুয়ারি ২৭।- রাজধানীর মিরপুর এক নম্বর  সেকশনে একটি বিপণি বিতানে নির্বাচনের সময় কয়েকটি বোমার বিস্ফোরণ ঘটেছে।
বিডিনিউজ জানায়: শুক্রবার দুপুরে বিস্ফোরণের সময় একটি সোনার দোকানকর্মীর ওপর হামলার অভিযোগও পাওয়া গেছে। এই ঘটনার পর হজরত শাহ আলী মার্কেটে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। শাহ আলী মার্কেটে বোমা বিস্ফোরণ ঘটলেও ওই সময় নির্বাচন হচ্ছিল তার বিপরীত দিকের শাহ আলী সিটি কর্পোরেশন মার্কেট ব্যবসায়ী সমিতির। শাহ আলী সিটি কর্পোরেশন মার্কেটটি শাহ আলী থানা এলাকায় হলেও সড়কের বিপরীত পাশের শাহ আলী মার্কেটটি পড়েছে দারুস সালাম থানা এলাকায়। শাহ আলী থানার উপপরিদর্শক অশোক চৌহান বলেন, সিটি কর্পোরেশন মার্কেটের ব্যবসায়ী সমিতির নির্বাচন চলাকালে দুপুর দেড়টার দিকে শাহ আলী মার্কেটের সামনে চার থেকে পাঁচটি বোমার বিস্ফোরণ ঘটে। এতে কয়েকজন আহত হন। তবে কারা এবং কেন এই বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে তা জানা যায়নি। এর তদন্ত করছে দারুস সালাম থানা পুলিশ। অশোকের দাবি, এই বিস্ফোরণের সঙ্গে নির্বাচনের  কোনো সংস্রব নেই। তবে দারুস সালাম থানার উপপরিদর্শক আবু সালাম মিয়া বলছেন, এর সঙ্গে নির্বাচনের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। তিনি বলেন, “নির্বাচন নিয়ে দুটি গ্রুপ রয়েছে। তাদের মধ্যে কোনো একটি পক্ষ আতঙ্ক সৃষ্টি করতে এই বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে।” সালাম জানান, বিস্ফোরণের পরপরই আশেপাশের   লোকজন ছোটাছুটি শুরু করে। হামলাকারীরাও সম্ভবত তাদের ভিড়ে মিশে যায়। তিনি জানান, এই হাতবোমার বিস্ফোরণের সময় ইউরেকা জুয়েলার্স নামে একটি গহনার দোকানের কর্মচারী কামাল হোসেন (৩৫) আহত হন।

পাংশায় অস্ত্রসহ চরমপন্থী গ্রেপ্তার
রাজবাড়ী, জানুয়ারি ২৭।- রাজবাড়ীর পাংশার হাবাসপুর ইউনিয়নে অস্ত্রসহ এক চরমপন্থী দলের সদস্যকে  গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ইউনিয়নের চরআফড়া গ্রামের সুইচগেট এলাকা থেকে বৃহস্পতিবার মাঝরাতে নিষিদ্ধ ঘোষিত পূর্ব বাংলা কমিউনিস্ট পার্টির (লাল পতাকার) সদস্য মোশারফ  হোসেনকে (৩২) গ্রেপ্তার করা হয়। তার বাড়ি পাবনার সুজানগরে। মোশারফের বিরুদ্ধে পাবনার সুজানগর থানায় একাধিক মামলা রয়েছে।
বিডিনিউজ জানায়: পাংশা থানার ওসি (তদন্ত) আলমগীর হোসেন জানান,  মোশারফের বাড়ি পাবনার সুজানগর হলেও পাংশার আফড়ায় তার শ্বশুরবাড়ি। আফড়ায় সন্ত্রাসী কর্মকান্ড চালাতে পারে- এমন খবর পেয়ে বৃহস্পতিবার রাত ১টার দিকে অভিযান চালিয়ে তাকে  গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ সময় মোশারফের কাছ থেকে ১টি দেশী বন্দুক, ২টি কার্তুজ, ২টি রাইফেলের গুলি উদ্ধার করা হয়।

কুয়েতে খুন: ২১ লাখ টাকায় খুনিদের ক্ষমায় রাজি মহিদুলের পরিবার
মুন্সীগঞ্জ, জানুয়ারি ২৭।- কুয়েতে খুন হওয়া বাংলাদেশি নাগরিক মহিদুলের পরিবার ২১ লাখ টাকায় তিন আসামিকে ক্ষমা করতে রাজি হয়েছে, যাদের সবাই প্রবাসী বাংলাদেশি।
বিডিনিউজ জানায়: বৃহস্পতিবার মানিকগঞ্জের সিঙ্গাইর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে মহিদুলের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দন্ডপ্রাপ্ত আসামিদের পরিবারের বৈঠকে এই সমঝোতা হয় বলে মুন্সীগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) ব্যারিস্টার গোলাম সারোয়ার জানান। সিঙ্গাইরের তাহের আলীর ছেলে মহিদুল (৪৫) গতবছর কুয়েতে খুন হন। তার স্ত্রী আনোয়ারা বেগম কুয়েতে মামলা করলে সেখানকার আদালত তিন প্রবাসী বাংলাদেশিকে মৃত্যুদন্ড দেয়। উচ্চ আদালতও এই রায় বহাল রাখে। দন্ডপ্রাপ্তরা হলেন, মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগর উপজেলার বাগবাড়ি বিবন্ধী গ্রামের ইকবাল ঢালী (২৫), তার ভাই হৃদয় ঢালী (২৩) এবং কুমিল্লার  হোমনার রবিউলের ছেলে রমজান। রায়ের পর থেকেই রমজান ও ঢালী ভাইদের পরিবারের পক্ষ থেকে মৃত্যুদন্ড মওকুফের জন্য চেষ্টা শুরু হয়। কিন্তু কুয়েতের আইন অনুযায়ী, কেবল নিহতের পরিবার ক্ষমা করলেই সেখানকার সরকার দন্ড মওকুফ বা লাঘব করতে পারে। এই পরিপ্রেক্ষিতে মহিদুলের মেয়ে ও ভাই-বোনের কাছে ইকবাল, হৃদয় ও রমজানের প্রাণভিক্ষা চাওয়া হয় পরিবারের পক্ষ  থেকে। বৃহস্পতিবার সিঙ্গাইর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে প্রশাসনের কর্মকর্তাদের মধ্যস্থতায় দুই পক্ষের বৈঠক হয়। মুন্সীগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক গোলাম সারোয়ার ছাড়াও মানিকগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) নিজাম উদ্দিন এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা  বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন। বৈঠক শেষে রাতে গোলাম সারোয়ার বলেন, “নিহতের পরিবার ৬০ লাখ টাকা দাবি করেছিল। তবে আলোচনার পর তারা ২১ লাখ টাকার বিনিময়ে ক্ষমা করতে রাজি হয়েছে।” বাংলাদেশ সরকার বিদেশের মাটিতে এ দেশের নাগরিকদের এই মৃত্যুদন্ড মওকুফে সব রকম চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, “বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন। সবার সহযোগিতায় এ চেষ্টা সফল হবে বলে আমরা আশা করছি।”
দন্ডপ্রাপ্ত দুই ভাই ইকবাল ও হৃদয়ের মামা নরুল ইসলাম জানান, আগামী সোমবার মহিদুলের পরিবার ক্ষমার কাগজপত্রে সই করবে বলে জানিয়েছে। তবে তার আগে মানিকগঞ্জের সিঙ্গাইর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং উপজেলা চেয়ারম্যানের যৌথ অ্যাকাউন্টে ২১ লাখ টাকা জমা করতে হবে। মুন্সীগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক গোলাম সারোয়ার জানান, নিহতের পরিবারের ক্ষমা করার দলিলে সই করলে আইনজীবীর মাধ্যমে তা কুয়েতের সংশ্লিষ্ট আদালতে পাঠানো হবে। এরপর সেখান থেকেই দন্ড মওকুফের ব্যাপারে পরবর্তী ব্যবস্থা নেয়া হবে। এর আগে, এক মিশরীয় নিরাপত্তাকর্মীকে হত্যার দায়ে গত ৭ অক্টোবর সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে প্রকাশ্যে দিনের বেলা আট বাংলাদেশির শিরñেদ করে মৃত্যুদন্ড কার্যকর করা হয়। এছাড়া সংযুক্ত আরব আমিরাতে পৃথক খুনের মামলায় দুই বাংলাদেশির শিরñেদের দন্ড মওকুফে নিহতদের পরিবারকে রাজি করানোর চেষ্টা চলছে।

একদিকে ‘নেশার হাটে’ মাদক বিক্রি অন্যদিকে নিরাময়ের ব্যবসা!
নারায়ণগঞ্জ, জানুয়ারি ২৭।- নারায়ণগঞ্জে পুলিশের নাকের ডগায় দেদারসে বিক্রি হচ্ছে মাদক। আর আসক্তি নিরাময়ে গজিয়ে উঠছে নিত্য নতুন ক্লিনিক। দুইয়ে মিলিয়ে জমজমাট ‘ব্যবসা’ চলছে নতুন এই সিটি কর্পোরেশনে।
বিডিনিউজ জানায়: শহরের বিভিন্ন এলাকায় খোঁজ নিয়ে দেখা যায়, অন্তত ৩৫টি স্থানে নিয়মিত মাদকের  কেনাবেচা চলে। আর নেশার টাকা জোগাতে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে ছিনতাই, চুরিসহ নানা অপরাধমূলক কর্মকান্ড। এই শহরে মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্র রয়েছে ১২টি। নগরবাসীরা বলছেন, পুলিশের নিষ্ক্রিয়তার কারণেই মাদকের বিস্তার রোধ করা যাচ্ছে না। তাছাড়া ধরা পড়লেও সহজেই জামিন হয়ে যাওয়ায় মাদকের কারবারিদের নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না। শহরের চাষাড়া  রেললাইন বস্তি, চাঁদমারী বস্তি, বালুরমাঠ, গলাচিপা-উকিলপাড়া রেললাইন, জামতলা, হংস হলের পুল, মন্ডলপাড়া পুল, জিমখানা বস্তি, মাছুয়াপাড়া, আমলাপাড়া, মাসদাইর, ইসদাইর, বাবুরাইল,  দেওভোগ, জল্লারপাড়, পাইকপাড়া, বেপারীপাড়া, ভূঁইয়ার বাগ, জিউসপুকুর পাড়, নন্দিপাড়া, নাগবাড়ী, হাজীগঞ্জ, পাঠানতলী, কোতালেরবাগ, সস্তাপুর, র‌্যালি বাগান, ডনচেম্বার, ব্যাংক কলোনি, খানপুর, তল্লা,  কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল, নিতাইগঞ্জ এলাকায় প্রকাশ্যে মাদক কেনাবেচা হয়। শহর আওয়ামী লীগ সভাপতি আনোয়ার হোসেন বলেন, “নারায়ণগঞ্জে মাদকের বিস্তার ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। কাদের ছত্রছায়ায় মাদক ব্যবসা চলছে তা সবাই জানলেও ভয়ে কেউ মুখ খুলতে সাহস পান না।” বুধবার ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংকরোডের পূর্ব পাশের চাঁদমারী এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, নতুন কেউ  সেখানে ঢুকলেই মাদক বিক্রেতারা শিস দিচ্ছেন।  নেশাদ্রব্য কিনে কেটে পড়ছেন আসক্তরা। জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের ঠিক পেছনের এই স্থানটি স্থানীয়দের কাছে ‘নেশার হাট’ বলেই পরিচিত। এখান  থেকে নতুন কোর্ট পর্যন্ত এলাকায় সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত ব্যবসা চলে বলে অভিযোগ পাওয়া  গেছে। শহরের ইসদাইর নতুন কোর্ট এলাকার বাসিন্দা সরকারি কর্মকর্তা আবুল হাশেম জানান, লিংকরোডের চাঁদমারী এলাকায় প্রকাশ্যে মাদক বিক্রি হয়। পুলিশ তাদের কিছু বলেও না। একই কথা বললেন শহরের উত্তর চাষাঢ়া এলাকার বাসিন্দা ব্যবসায়ী নূরে ইয়াছিন  নোবেল ও শফিকুল ইসলাম। তাদের অভিযোগ, পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের পাশের এই ‘নেশার হাটে’ প্রকাশ্যে মাদক বিক্রি হলেও এ ব্যাপারে পুলিশের কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেই। পুলিশের সহায়তা ছাড়া প্রকাশ্যে মাদক বিক্রি সম্ভব নয়। নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের পরিচ্ছন্নতাকর্মী নারু জানান, প্রতিদিন সকালে শহরের প্রধান সড়কের পাশের ড্রেনগুলিতে ফেনসিডিলের শত শত খালি অথবা ভাঙা বোতল পাওয়া যায়। অবশ্য জেলার পুলিশ সুপার শেখ নাজমুল আলমের দাবি, এটা সামলানো পুলিশের কাজ নয়। তিনি বলেন, “এটা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কাজ। পুলিশ তাদের কাজে সহায়তা করছে।” মাদকের বিস্তার রোধে অভিযান অব্যাহত রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, গত ডিসেম্বরে ৭ দিনব্যাপী অভিযান চলেছে। এ মাসের ২৬ তারিখ থেকে ৭ দিনব্যাপী বিশেষ অভিযান চলছে।
এদিকে শহরে মাদকের এই ভয়াবহতায় উদ্বিগ্ন অভিভাবকরা। মাদকাসক্ত সন্তানদের তারা পাঠাচ্ছেন  বেসরকারি মাদক নিরাময় কেন্দ্রে। সেখানে ‘চিকিৎসা’  যেমনই হোক, আসন পাওয়া দুস্কর। অনেকেই অভিযোগ করেছেন নিরাময়ের নামে এসব ক্লিনিক ব্যবসার ফাঁদ পেতে বসেছে। প্রত্যেকের জন্য ৩০-৪০ হাজার টাকা খরচ হলেও চিকিৎসা যথাযথ না হওয়ায় অনেকেই আবারো ফিরে যাচ্ছেন নেশার পথে। অবশ্য এ অভিযোগ অস্বীকার করছেন নিরাময় কেন্দ্রের সঙ্গে যুক্তরা। নতুন এ সিটি কর্পোরেশনের প্রথম মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভী বলেন, তিনি সবসময়ই মাদকের বিরুদ্ধে সোচ্চার। এ বিষয়ে সচেতনতামূলক বিভিন্ন কার্যক্রম চালানো হচ্ছে বলেও জানান তিনি। তিনি বলেন, “আগে থেকেই মাদকের বিরুদ্ধে আমার অবস্থান, এখনো আমি সে অবস্থানেই আছি।” শহরের বিভিন্ন স্পটে মাদক বিক্রির বিষয়ে প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, “এসপি সাহেবকে জিজ্ঞাসা করেন। তিনি ভালো বলতে পারবেন।” এ বিষয়ে পুলিশ সুপার শেখ নাজমুল আলম জানান, গত মাসে ১৭১টি মামলায় অনেক মাদক কারবারিকে  গ্রেপ্তার করা হলেও তাদের অধিকাংশই জামিনে  বেরিয়ে এসে আবারো নেশার ব্যবসায় জড়িয়েছে।

সাঈদীর বিরুদ্ধে সাক্ষী নিয়ে ট্রাইবুনালে তুমুল বিতর্ক
ঢাকা, জানুয়ারি ২৭।- একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় বিচারাধীন জামায়াত নেতা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে প্রসিকিউশনের ১৭তম সাক্ষীর সাক্ষ্য নেয়ার সময় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে তুমুল বিতর্ক হয়েছে।
বিডিনিউজ জানায়: বৃহস্পতিবার মধ্যাহ্ন বিরতির পর প্রসিকিউটর হায়দার আলী প্রেস ইনস্টিটিউট অব বাংলাদেশের (পিআইবি) কর্মী রবিউল আনাম খানের বক্তব্য নেয়া শুরু করেন। রবিউল আনাম ছিলেন তথ্য-উপাত্ত সরবরাহকারী সাক্ষী। তার স্বাক্ষর পরীক্ষা ও জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে তিনি যে মামলার তদন্ত কর্মকর্তাকে তথ্য-উপাত্ত যা মূলত সাময়িক ও সংবাদপত্রের প্রতিবেদনগুলো দিয়েছিলেন সে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।
কিন্তু সংবাদ প্রতিবেদনকে ট্রাইবুনালে ‘প্রামাণিক দলিল’ হিসেবে উপস্থাপন করা হলে তার তীব্র বিরোধিতা করেন আসামিপক্ষের আইনজীবীরা। এ নিয়ে বিতর্কের মধ্য দিয়েই এ দিন আদালতের কার্যক্রম শেষ হয়।সাঈদীর আইনজীবীরা বলেন, তদন্ত কর্মকর্তারা কোনো বিশেষ তথ্য সংগ্রহ করলে কেবল তা নিশ্চিত করার জন্যই এ ধরনের সাক্ষীকে হাজির করা হয়। তবে সংবাদ প্রতিবেদন ও নিবন্ধ অপরাধের ‘প্রামাণিক দলিল’ হিসেবে চিহ্নিত করার ক্ষেত্রে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা বলেন, কোন তথ্য কীভাবে প্রমাণ হিসেবে সনাক্ত হবে সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট আইন রয়েছে। ২০১০ সালে ট্রাইব্যুনালের করা কার্যপ্রণালী বিধির ৫৪ নম্বর অনুচ্ছেদ উদ্ধৃত করে তারা বলেন, প্রসিকিউশন কোনো তথ্যের সত্যতা প্রমাণ করতে পারে ওই তথ্যের লেখক বা যিনি লেখকের হাতের লেখা বা স্বাক্ষর চেনেন তার মাধ্যমে। এ ধরনের কোনো ব্যক্তি যদি মারা যান বা তাকে যদি না পাওয়া যায় তাহলে যে ব্যক্তির কাছ থেকে তা সংগ্রহ করা হয়েছে বা যিনি জানেন কার কাছ থেকে এটা সংগ্রহ করা হয়েছে তাকে দিয়ে তথ্যের সত্যতা যাচাই করা যায় বলে দাবি করেন তারা। মিজানুল ইসলাম বলেন, কার্যপ্রণালীতে স্পষ্ট বলা আছে, কোনো তথ্যকে প্রামাণিক দলিল হিসেবে সনাক্ত করার ক্ষেত্রে তার লেখককে অবশ্যই আদালতে হাজির হতে হবে।কার্যপ্রণালীতে ওই বিধি কোনো প্রবন্ধ বা বইয়ের জন্য করা হয়েছে বলে আদালত জানালেও তা মেনে নিতে অস্বীকার করেন সাঈদীর আইনজীবীরা।এ সময় তারা সংবাদ প্রতিবেদক ও সংবাদপত্রের সম্পাদককে আদালতে উপস্থিত করার দাবি জানালে তার বিরোধিতা করে প্রসিকিউটর হায়দার আলী বলেন, এর কোনো প্রয়োজন নেই।১৯৭৩ অ্যাক্টের ১৯-এর ১ সেকশন এবং কার্যপ্রণালীর ৫৪ অনুচ্ছেদ তুলে ধরে তিনি বলেন, চলচ্চিত্র, সাময়িকী ও সংবাদপত্রসহ যে কোনো কিছুর প্রতিবেদন বা আলোকচিত্রসহ যে কোনো তথ্য ট্রাইব্যুনাল প্রামাণিক দলিল হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করতে পারে। তখন সাঈদীর আইনজীবীরা ট্রাইব্যুনালে কার্যপ্রণালীর ৫৫ অনুচ্ছেদ উদ্ধৃত করে বলেন, কোনো একবার প্রামাণিক দলিল হিসেবে সনাক্ত হলে তা বিচারের ক্ষেত্রে গ্রহণযোগ্য তথ্য বলে বিবেচিত হবে। এ সময় ট্রাইব্যুনালের এক বিচারপতি বলেন, প্রামাণিক দলিল কীভাবে বিবেচনা করা হবে তা বিচারপতিরা সিদ্ধান্ত নেবে।
তার বক্তব্যের বিরোধিতা করে মিজানুল বলেন, বিষয়টি বিচারপতি ভেদে ভিন্ন হবে। বিচারপতির পরিবর্তন হলে প্রামাণিক দলিল বিবেচনায় নেয়ার ক্ষেত্রে ওই পদ্ধতি নাও মানা হতে পারে। এ সময় প্রধান বিচারপতি কার্যপ্রণালীর ওই ধারা পুনর্বিবেচনার আশ্বাস দেন।

নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁস, দুই ঢাবি ছাত্র আটক
ঢাকা, জানুয়ারি ২৭।- খাদ্য বিভাগের সহকারী উপ-পরিদর্শক পদে নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই ছাত্রকে আটক করা হয়েছে। প্রক্টর জানিয়েছেন, তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করা প্রশ্ন মিলে গেছে।
বিডিনিউজ জানায়: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জসীমউদ্দীন হল থেকে বৃহস্পতিবার গভীর রাতে দুই সেট প্রশ্নপত্রসহ দুই ছাত্রকে আটক করেন ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর আমজাদ আলী। পরে তাদের শাহবাগ থানায় দেয়া হয়। আটক ছাত্ররা হলেন- আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের ২০০৫-০৬ শিক্ষাবর্ষের তৌহিদুল ইসলাম ও দর্শন বিভাগের ২০০৩-০৪ শিক্ষাবর্ষের ইসমত মেজবাহউদ্দিন। শুক্রবার সকাল ১০টায় থেকে ১১টা পর্যন্ত এ পরীক্ষায় পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল ২৩ হাজারের মতো।
আমজাদ আলী বলেন, আবাসিক ছাত্রদের কাছ থেকে খবর পেয়ে রাত ২টার দিকে জসীমউদ্দীন হলে অভিযান চালানো হয়। সেখান থেকে খাদ্য বিভাগের কর্মকর্তা পদে নিয়োগ পরীক্ষার ‘শাপলা’ ও ‘গোলাপ’ সেটের প্রশ্নপত্রসহ দুই জনকে আটক করা হয়। রাতেই বিষয়টি খাদ্য বিভাগের সংশ্লিষ্টদের জানানোর চেষ্টা করা হলেও কাউকে পাওয়া যায়নি বলে উল্লেখ করেন তিনি।
ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর অভিযোগ করেন, সকালে পরীক্ষা শুরুর আগে খাদ্য ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের সচিব বরুণ মিত্রের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি দুর্ব্যবহার করেন। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে আমজাদ আলী বলেন, “পরীক্ষা শেষে প্রশ্নপত্র মিলিয়ে দেখা হয়েছে। উদ্ধার করা প্রশ্নের সঙ্গে এর মিল রয়েছে।”
শাহবাগ থানার ওসি সিরাজুল ইসলাম বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ রাতে দু’জনকে থানায় দিয়েছে। ১২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও খাদ্য বিভাগের সংশ্লিষ্টদের আসতে বলা হয়েছে। তাদের সঙ্গে কথা বলে পরবর্তী পদক্ষেপ নেয়া হবে।”

জনসংখ্যাই একদিন আমাদের খেয়ে ফেলবে :এরশাদ
॥ পূর্বাঞ্চল ডেস্ক ॥
গতকাল শুক্রবার রাজধানীর কাকরাইলে ইঞ্জিনিয়ার ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে (আইডিইবি) এক সেমিনারে সাবেক রাষ্ট্রপতি ও জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ বলেছেন, দিনের পর দিন দেশের জনসংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। আমাদের জনসংখ্যাই একদিন আমাদের খেয়ে ফেলবে। এসব নিয়ে কারো কোনো চিন্তা নেই।
সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন আইডিইবির সভাপতি একেএম হামিদ। এতে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন প্রকৌশলী এমএ গোফরান। স্বাগত বক্তব্য রাখেন মো. শামসুর রহমান। ঢাকাকে বসবাসের অযোগ্য উল্লেখ করে তিনি বলেন, ঢাকা শহরকে দুই ভাগ করার কারণ জানি না। আবার সুযোগ (ক্ষমতায়) আসলে ঢাকাকে এক করা হবে। সরকার যা করেছে এখন আমাদের সেটি মেনে নিতে হবে। এরশাদ বলেন, আমি দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথম শ্লোগান দিয়েছি ৬৮ হাজার গ্রাম বাঁচলে দেশ বাঁচবে।গ্রামের মানুষ বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত উল্লেখ করে সাবেক রাষ্ট্রপতি বলেন, গ্রামের মানুষের কাছে সুফল পৌঁছাতে উপজেলা নিয়ে একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিয়েছিলাম। কিন্তু দুঃখের বিষয় আমি চলে যাওয়ার পর উপজেলাগুলোকে হত্যা করা হয়েছে। এর কারণ আমি জানি না। এটি দেশের জন্য করেছি, কোন পার্টির জন্য নয়।এরশাদ বলেন, আবার নতুন করে উপজেলা সৃষ্টি হলেও আগের মতো নেই। আমরা চাচ্ছি সে অবস্থার পরিবর্তন ঘটাতে। আমরা প্রশাসনের বিকেন্দ্রীকরণে বিশ্বাসী। আমি সেজন্য প্রাদেশিক সরকারের প্রস্তাব দিয়েছি। আমি আশা করবো এ বিষয়ে আমি আপনাদের সমর্থন পাবো।আপনি হয়তো আবারো ক্ষমতায় যাবেন’-অনুষ্ঠানে এরশাদকে উদ্দেশ করে মো. শামসুর রহমানের এমন বক্তব্যের উত্তরে এরশাদ বলেন, দেশে অসম্ভব কিছু না। মানুষের মত বদলায়। শান্তি চায় তারা। মানুষ শান্তির পথে ভোট দিবে। আইডিইবি’র চার দিনব্যাপী সম্মেলনে তৃতীয় দিনের এ অনুষ্ঠানে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে প্রকৌশলীরা উপস্থিত ছিলেন।

চুয়াডাঙ্গা জেলা কারাগারে এক হাজতির আকস্মিক মৃত্যু
চুয়াডাঙ্গা : চুয়াডাঙ্গা জেলা কারাগারে হামিদুল ইসলাম (৩৪) নামে এক হাজতির মৃত্যু হয়েছে। গতকাল শুক্রবার ভোরে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নেয়ার কিছুক্ষণের মাথায় সে মারা যায়।
বাংলানিউজ জানায়: চুয়াডাঙ্গা জেলা কারাগারের ডেপুটি জেলার শেখ মোঃ রাসেল জানান, চুয়াডাঙ্গা জেলার আলমডাঙ্গা উপজেলার বড় গাংনী গ্রামের নুর মোহাম্মদের ছেলে হামিদুল ইসলাম একটি হত্যা ও ডাকাতি মামলার হাজতি ছিল।গতকাল শুক্রবার মধ্যরাতে সে অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে ভোরের দিকে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে নেয়া হয়। চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের কর্তব্যরত মেডিক্যাল কর্মকর্তা ডাঃ মশিউর রহমান জানান, হাসপাতালে নেয়ার মাত্র ১৫ মিনিটের মাথায় হামিদুল মারা যায়।এদিকে, গতকাল শুক্রবার বেলা ১২ টায় হামিদুলের লাশের সুরাতহাল রিপোর্ট একজন নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেটের উপস্থিতিতে সম্পন্ন করেন সদর থানার এসআই মাসুদুল হক। এ সময় হাজতি হামিদুলের আত্মীয়-স্বজনরা উপস্থিত ছিলেন।হামিদুলের স্ত্রী জেসমিন খাতুনের অভিযোগ গত শনিবার কারাগারে তিনি তার স্বামীর সাথে দেখা করেছিলেন। তখন তার স্বামী সম্পূর্ণ সুস্থ ছিলেন। গতকাল শুক্রবার রাতে যখন সে অসুস্থ হয়েছে তখন আমাদের কোন খবর দেয়নি কারাগার কর্তৃপক্ষ।

অবশেষে শিশু চারটিকে তাদের মা-বাবার কাছে ফেরত দেয়া হল
কোটালীপাড়া, গোপালগঞ্জ : গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলায় চারটি শিশুকে পাচার সন্দেহে চার বাংলাদেশী ও সাত মার্কিনীকে আটক করে ৭ ঘণ্টা ধরে শ্বাসরুদ্ধকর জিজ্ঞাসাবাদ শেষে শিশু চারটিকে তাদের মা-বাবার কাছে ফেরত দিয়ে আটককৃতদের ছেড়ে দেয়া হয়েছে।উপজেলা প্রশাসন ও জনসাধারণের সাথে কথা বলে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার বিকেল ৩ টায় একটি অত্যাধুনিক মাইক্রোবাস ( ঢাকা মেট্রো চ-৫৩-৪৩৭০) উপজেলা পরিষদের সামনে এসে থামে। এ সময় সাইলাস মুরমু নামে এক ব্যক্তি একটি শিশুকে মাইক্রোবাসে অবস্থানরত এক ব্যক্তির কাছে শিশুটিকে তুলে দিয়ে কিছু অর্থ গ্রহণ করে। এর পরে মাইক্রোবাসটি চলে যায়। এ ঘটনা দেখে উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান আমিনুজ্জামান খান মিলন সাইলাস মুরমুকে আটক করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে নিয়ে আসে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ কামরুল হাসান সাইলাম মুরমুকে মাইক্রোবাসটিকে ফিরিয়ে আনার নির্দেশ দেন। সাইলাম মুরমু মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করে মাইক্রোবাসটি ফিরিয়ে আনেন। মাইক্রোবাসে থাকা ব্রিভারলি ওয়েড,  স্টেসি ফিলপট, লেন্সি ফিলপট, কেলি ফিলপট, মাইক ফিলপট, চেসি ফিলপট, রবার্ট ফিনভিনকার নামে সাত মার্কিনী ও চন্দন যোশেফ হেব্রম,পনুয়েল বাড়ৈ,নিশি কান্ত বাড়ৈ নামে তিন বাংলাদেশিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে নিয়ে আসা হয়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে সাত মার্কিনী ৪ থেকে ১৮ মাস বয়সি চারটি বাংলাদেশি শিশুকে নিয়ে প্রবেশ করেন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কামরুল হাসান ও থানা ওসি তোতা মিয়া আটককৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেন। আটককৃতরা জয়পুরহাট জেলার পাঁচ বিবি উপজেলায় অবস্থিত “বাংলা-হোপ” সংস্থার কর্মকর্তা, কর্মচারী ও অর্থ যোগান দাতা হিসেবে পরিচয় দেন। প্রায় ৭ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ শেষে শিশু চারটিকে তাদের মা-বাবার কাছে ফেরত দেয়া হয়। চারটি শিশুর মধ্যে দু’টি শিশু পার্শ্ববর্তী বরিশাল জেলার উজিরপুর উপজেলার সাতলা গ্রামের। একটি শিশুর নাম-মেঘা বাড়ৈ (৪ মাস), পিতা-পরিতোষ বাড়ৈ। অপর শিশুটির নাম-রতন তালুকদার (১৮ মাস), পিতা-রঞ্জন তালুকদার। পিয়াস মল্লিক (১৮ মাস), পিতা-প্রহ্লাদ মল্লিক ও জুই ফলিয়া (১৮ মাস) পিতা-জন ফলিয়া,বাড়ি কোটালীপাড়া উপজেলার রামশীল ও দিঘলীয়া গ্রামের।জন ফলিয়া বলেন, পারিবারিক অস্বচ্ছলতার কারণে তিনটি সন্তানের মধ্যে জেনি নামে একটি মেয়েকে আমি বাংলা হোপে দিয়েছি। আমার ওই মেয়ের বয়স এখন ৬ বছর। বাংলা হোপের পক্ষ থেকে তাকে ভরন-পোষণ দিয়ে এসএসসি পর্যন্ত লেখাপড়া শিখিয়ে স্বাবলম্বী করে গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। আমার ওই বাচ্চাটি ওখানে ভালই আছে। তাই আমি আমার ছোট মেয়েটিকেও তাদের কাছে দিয়েছিলাম।বাংলা হোপের কমিউনিটি মোটিভেশনাল ইন্চার্জ পুনয়েল বাড়ৈ বলেন, সারাদেশে আমাদের ১১ টি শাখা রয়েছে। এ শাখাগুলোর মাধ্যমে বিভিন্ন স্থান থেকে অনাথ শিশুদের নিয়ে এসে এসএসসি পর্যন্ত লেখাপড়া শিখিয়ে স্বাবলম্বী করা হয়। এ সংস্থার নামে একটি ট্রাস্ট রয়েছে। সেখান থেকে এসব শিশুদের যাবতীয় খরচ বহন করা হয়। বাংলাহোপ এতিম খানায় বর্তমানে ১২১ জন অনাথ শিশু লেখাপড়া করছে। এ সংস্থাটির ফাউন্ডার হলেন-মিঃ এবং মিসেস ব্রিভারলি ওয়েড।উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ কামরুল হাসান বলেন, বাংলা হোপ একটি সরকার অনুমোদিত প্রতিষ্ঠান। তাদের কার্যক্রম বৈধ। তবে তারা চারটি শিশুর অভিভাবকদের কাছ থেকে ব্লাংক স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নিয়েছে। যা সম্পূর্ণ বিধি বহির্ভূত। আমরা থানায় একটি জিডি করে অভিভাবকদের কাছ থেকে মুচলেকা নিয়ে শিশু চারটিকে তাদের মা-বাবার হাতে তুলে দিয়েছি। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলাপ করে বাংলা হোপের কাগজপত্র যাচাই বাছাই করে আটকৃতদের ছেড়ে দিয়েছি।-এফএনএস।

মংলায় সিরিয়াল চোর কালু আটক; অন্যরা ভোঁ দৌড়
মংলা, বাগেরহাট : কথায় আছে চোরের দশ দিন তো গৃহস্থের একদিন। গতকাল শুক্রবার ভোর রাত আনুমানিক সাড়ে তিনটায় মংলা শহরতলির রাজ্জাক সড়কে সংঘবদ্ধ একটি চোরের দল ঢাকা নিবাসি আশিকের বাড়িতে একরাতে দ্বিতীয় দফায় চুরি সংঘঠিত করতে গিয়ে প্রতিবেশিদের জালে ধরা পড়েছে। এলাকার লোকজন কালু(২৭) নামে এক চোরকে আটক করেছে। অন্য চোরেরা তাড়া খেয়ে ভোঁ দৌঁড় দিয়ে পালিয়ে যায়। পরে কালুকে উত্তম মধ্যম দিয়ে থানায় সোপর্দ করা হয়েছে।
এলাকাবাসীরা জানিয়ছে, কালু ও তার একটি সংঘবদ্ধ চোর গ্রুপ এলাকায় সিরিয়াল(প্রতি রাতে টার্গেট করে চুরি সংঘঠিত করছে) চোর হিসেবে পরিচিত। তাদের অত্যাচারে রাতের ঘুম সকলের হারাম হয়ে গেছে। প্রতিবেশী হাজী আলম জানান, বাড়িটির সবার অনুপস্থিতিতে প্রথম দফার চুরিতে প্রায় ৫০হাজার টাকার মালামাল সরিয়ে ফেলেছে চোরেরা। থানার কর্মকর্তা এসআই মিজান জানান, মামলার প্রস্তুুতি চলছে। চুরি যাওয়া মালামাল উদ্ধারের চেষ্টা চলছে। এলাকাবাসী পরিত্রাণ চেয়েছেন।

কুষ্টিয়ায় ছাত্রদল নেতাকে জবাই করে হত্যা, আটক ৩
কুষ্টিয়া: কুষ্টিয়া শহরতলীর চাঁদাগাড়া মাঠে বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে কর্নেল (২২) নামে এক ছাত্রদল নেতাকে জবাই করেছে দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে নিহতের ৩ বন্ধুকে আটক করেছে পুলিশ।
বাংলানিউজ জানায়: নিহত কর্নেল শহরের পূর্ব মজমপুর এলাকার মৃত মতিয়ার রহমানের ছেলে। তিনি জেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির অন্যতম সদস্য বলে জানা গেছে। আটকরা হলেন- কুষ্টিয়া শহরের পূর্ব মজমপুর এলাকার সৌরভ, মিহির এবং শহরের কোর্টপাড়া এলাকার সবুজ। পুলিশ জানায়, পূর্ব পরিকল্পিতভাবে বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১১টায় কর্নেলের ৪ বন্ধু পার্থ, সৌরভ, মিহির ও সবুজ কর্নেলকে চাঁদাগাড়া মাঠে নিয়ে গিয়ে উপর্যুপরি  কোপানোর পর জবাই করে। খবর পেয়ে তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে ঘটনাস্থল থেকে একজনসহ রাতেই ওই ৩ জনকে আটক করে পুলিশ। এছাড়া ঘটনাস্থল থেকে ২টি মোটরসাইকেল ও ধারালো ছুরি উদ্ধার করা হয়। তবে তাদের অপর সঙ্গী পার্থ এখনও পলাতক রয়েছেন। কুষ্টিয়ার সহকারী পুলিশ সুপার সিএ হালিম জানিয়েছেন, ব্যক্তিগত বিরোধের  জের ধরে সৌরভ তার আরও ৩ বন্ধুকে সঙ্গে নিয়ে এ খুনের ঘটনা ঘটিয়েছে। পলাতক পার্থকে ধরতে পুলিশি অভিযান চলছে বলেও জানান তিনি।

গোপালগঞ্জে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ১
গোপালগঞ্জ: গোপালগঞ্জের মুকসুদপুরে উপজেলার  টেংরাখোলা-বাঁশবাড়িয়া সড়কের খান্দারপাড় এলাকায় শুক্রবার সড়ক দুর্ঘটনায় রাশেদ মিয়া (৩৫) নামে এক  মোটরসাইকেল চালক নিহত হয়েছেন। রামেদ ওই উপজেলার ঝটিগ্রামের হান্নান মিয়ার ছেলে।
বাংলানিউজ জানায়: মুকসুদপুর খানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফেরদৌস হোসেন জানান, বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে রাশেদের মোটরসাইকেলটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশে একটি গাছের সঙ্গে ধাক্কা লাগে। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে মুকসুদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।

এবার ফেনী নদী অভিমুখে জাপা’র লংমার্চ 
ঢাকা: জাতীয় পার্টি’র টিপাইমুখ ও তিস্তা লংমার্চের পরে এবার আসছে ফেনী নদী অভিমুখে লংমার্চ। লক্ষ্য বিএনপির ঘাঁটি বলে পরিচিত ফেনীতে ভাগ বসানো।  ফেব্রুয়ারি মাসের শেষ অথবা মার্চের প্রথম সপ্তাহে এ লংমার্চ হতে পারে বলে জানিয়েছেন জাতীয় পার্টির ভাইস চেয়ারম্যান এটিএম গোলাম মওলা চৌধুরী।
বাংলানিউজ জানায়: জাপার এই ভাইস চেয়ারম্যান জানিয়েছেন, পার্টি’র চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ  ফেনী নদী অভিমুখে লংমার্চ’র নীতিগতভাবে সম্মতি দিয়েছেন। শিগগিরই প্রেসিডিয়ামের বৈঠকে সময়সূচি চূড়ান্ত করা হবে। তবে ৭ মার্চের আগেই এ লংমার্চ হচ্ছে বলে তিনি দাবি করেছে।জাতীয় পার্টি’র একাধিক সিনিয়র নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ফেনী নদীর পানি চুক্তির আলোচনা শুরু হওয়াতে ফুঁসে উঠেছেন ফেনীবাসী। এ অঞ্চলের  লোকজন এ ইস্যুতে বিএনপিকে পাশে প্রত্যাশা করেছিলেন। কিন্তু বিএনপি সে প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হওয়ায় জনগণ ক্ষুব্ধ। আর জনগণের এ ক্ষোভকে কাজে লাগাতে চায় জাপা।

স্পেনের বোঝা এখন ৫৩ লাখ বেকার
মাদ্রিদ: স্পেনে বেকারের সংখ্যা গত ডিসেম্বর পর্যন্ত হিসাবে ৫০ লাখ ছাড়িয়েছে। বিগত ২০১১’র শেষ প্রান্তিকের হিসাব অনুযায়ী সর্বশেষ প্রকাশিত পরিসংখ্যানে স্পেনে কর্তৃপক্ষ এই তথ্য প্রকাশ করেছে।
বাংলানিউজ জানায়: স্পেনের ন্যাশনাল স্ট্যাটিসটিকস ইন্সটিটিউট জানিয়েছেন, কর্মক্ষম স্পেনীয়দের মধ্যে  বেকারের সংখ্যা গত ডিসেম্বরে ছিল প্রায় ৫৩ লাখ। অথচ ২০১১’র তৃতীয় প্রান্তিকেই বেকারের সংখ্যা ছিল প্রায় ৪৯ লাখ।সে হিবাসে তৃতীয় প্রান্তিকে দেশটির বেকারত্বের হার ২১.৫ শতাংশ থেকে বেড়ে শেষ প্রান্তিকে ২২.৮ শতাংশে  পৌঁছেছে বলে জানায় প্রতিষ্ঠানটি। প্রাপ্ত উপাত্ত অনুযায়ী,  স্পেনে বর্তমানে ১৬ থেকে ২৪ বছর বয়সীদের মধ্যে অর্ধেকের বেশি বেকার, পূর্বে এই সংখ্যা ছিল প্রায় ৪৫.৮ শতাংশ। ইউরোভুক্ত ১৭টি দেশের মধ্যে স্পেনের  বেকারত্বের হার বর্তমানে সর্বোচ্চ। গত বৃহস্পতিবার  স্পেনের বাণিজ্যমন্ত্রী আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন, বর্তমানে বেকারত্বের পরিমান ৫৪ লাখ ছাড়িয়ে যেতে পারে।

‘সার্চ কমিটিতে নাম প্রস্তাব করবে না বিএনপি’ 
ঢাকা : নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠনে গঠিত সার্চ কমিটিতে কারো নাম প্রস্তাব করা হবে না বলে সাফ জানিয়ে দিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ।
বাংলানিউজ জানায়: শুক্রবার বিকেলে জাতীয় প্রেসক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে সেন্টার ফর ডেমোক্রেসি অ্যান্ড পিস স্টাডিজ আয়োজিত গোলটেবিল আলোচনায় তিনি এ কথা জানান।
সার্চ কমিটিকে অসাংবিধানিক আখ্যা দিয়ে ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ্ বলেন, ‘সার্চ কমিটি গঠনটাই অসাংবিধানিক। এ সার্চ কমিটি গঠন করে সরকার সংবিধানের ১৫৮নং অনুচ্ছেদ ভঙ্গ করেছে। সুতরাং এ সার্চ কমিটি জাতীয়তাবাদী দল প্রত্যাখ্যান করছে। এখানে কোনো নাম প্রস্তাব করা হবে না।’তিনি বলেন, ‘১৫৮নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী এ ধরনের কমিটি গঠন করতে হলে সংসদে বিল উত্থাপন করতে হবে। কিন্তু সংসদকে পাশ কাটিয়ে প্রজ্ঞাপন জারির মাধ্যমে এই সার্চ কমিটি গঠন করা হয়েছে। এর কোনো সাংবিধানিক ভিত্তি নেই।’ সংসদের ওপর আস্থা ও বিশ্বাস না রাখতে পেরেই সংসদকে পাশ কাটিয়ে এ ধরনের কমিটি করা হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।সার্চ কমিটি প্রত্যাখ্যানের পাশাপাশি ইভিএম পদ্ধতিকেও প্রত্যাখ্যান করেন বিএনপির এই বর্ষীয়ান নেতা। তিনি বলেন, ‘বিশ্বের কোনো দেশ এখন আর ইভিএম’র ওপর আস্থা রাখতে পারছে না। অনেক আগেই এ ইভিএম পদ্ধতি বিলুপ্ত করা হয়েছে। কারণ, এটি এখন আর  ভোটের মেশিন নয়, এটি এখন ভোট ছিনতাইয়ের  মেশিন।’ আন্দোলন কর্মসূচি সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘১২ মার্চের কর্মসূচিতে বাধা দেয়া হলে যেমন সরকার তেমন ওষুধ দেয়া হবে। গণবিস্ফোরণের মাধ্যমে এই সরকারকে ক্ষমতা থেকে সরানো হবে।’

দেশের সামনে জঙ্গি-সাম্প্রদায়িক শক্তির মহাবিপদ : সিপিবি 
ঢাকা : বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) জাতীয় সমাবেশ থেকে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকারকে জঙ্গি-সাম্প্রদায়িক শক্তি সম্পর্কে সতর্ক করে দেয়া হয়েছে।
বাংলানিউজ জানায়: সমাবেশে নেতৃবৃন্দ বলেছেন, জঙ্গি-সাম্প্রদায়িক শক্তির উত্থানে দেশের সামনে মহাবিপদের আশঙ্কা রয়েছে। এই মহাবিপদ ঠেকাতেই হবে। জামায়াত- শিবিরসহ জঙ্গি সাম্প্রদায়িক শক্তিকে এই মহাবিপদ আখ্যায়িত করে সিপিবি নেতৃবৃন্দ বলেন, ‘মার্কিন-সৌদি টাকায় এই শক্তি ষড়যন্ত্রের ছোবল হানতে উদ্যত।’

উপমহাদেশের প্রখ্যাত আলেম বুলবুলে বাংলাদেশ আর নেই
॥ স্টাফ রিপোর্টার ॥
উপ মহাদেশের প্রখ্যাত আলেমে দ্বীন আলহাজ্ব আব্দুল ওহাব বুলবুলে বাংলাদেশ ইন্তেকাল করেছেন (ইন্না...রাজেউন)। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল (১০৩) বছর। বৃহস্পতিবার রাত দেড়টায় ঝালকাঠি উপজেলার রাজাপুর উপজেলার সাতুরিয়া ইউনিয়নের উত্তর তারাবুনিয়া গ্রামের নিজবাড়িতে তিনি ইন্তেকাল করেছেন। তিনি স্ত্রী, ৭ ছেলে ও ৪ মেয়েসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। আলহাজ্ব আব্দুল ওহাব ছিলেন অর্ধশত বছরের বেশি সময় ধরে দেশ-বিদেশে ইসলামের দাওয়াত প্রচারের কাজে নিয়োজিত ছিলেন। সুমধুর কন্ঠে কোরআন তেলওয়াত ও ওয়াজ করার কারণে ১৯৬৮ সালে তৎকালীন পাকিস্তান সরকার তাকে ‘বুলবুলে পাকিস্তান’ ঘোষণা দেন। স্বাধীনতা পর তিনি ‘বুলবুলে বাংলাদেশ’ উপাধি পান। তিনি বাংলাদেশের বহু নামকরা আলেম-ওলামা’র গুরু ছিলেন। বাংলাদেশের বহু মসজিদ-মাদ্রাসার উদ্যোক্তা ছিলেন বুলবুলে বাংলাদেশ। তার মৃত্যুতে দেশের ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের মাঝে শোকের ছায়া বিরাজ করছে।  গতকাল শুক্রবার বিকাল বাদ আছর  নিজ গ্রামে তার জানাযা নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। জানাযা দেশের বিভিন্ন  জেলা. উপজেলা থেকে হাজার হাজার মানুষ অংশগ্রহণ করেন। পরে তারবুনিয়া নূরানী মাদ্রাসা সংলগ্ন পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়। এদিকে প্রখ্যাত এই আলেমের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করে বিবৃতি দিয়েছেন জলিল গ্রুপের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ মনির হোসেন, পরিচালক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ।